চট্টগ্রামের শিশু
সাইমা হোসনারা অধরা,চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের শিশুরা—যে শৈশব
আমাদের চোখের সামনে
চট্টগ্রাম আমার নিজের শহর। প্রতিদিন এই শহরের ব্যস্ত রাস্তায় চলতে গিয়ে আমরা কত শিশুকে দেখি—কেউ স্কুলের পোশাক পরে বই হাতে ছুটছে, আবার কেউ সেই একই বয়সে দোকানে, ওয়ার্কশপে, রাস্তায় কিংবা বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত। দৃশ্যগুলো আমাদের কাছে এত পরিচিত হয়ে গেছে যে অনেক সময় আমরা আর থেমে ভাবি না
—এই শিশুটিরও তো স্কুলে থাকার কথা ছিল।
সাম্প্রতিক তথ্যগুলো আমাদের আরও ভাবিয়ে তোলে। ২০২৬ সালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ১৭ লাখ ৮০ হাজার শিশু শ্রমের সঙ্গে যুক্ত, আর বিভাগীয় পর্যায়ে শিশুশ্রমের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি চট্টগ্রামে—প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার। তাদের একটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ কাজেও যুক্ত।
চট্টগ্রামে এই সমস্যার পেছনে দারিদ্র্য, পরিবারের আর্থিক সংকট, শিক্ষার সুযোগের অভাব এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মানুষের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে আসার মতো বিষয়গুলোও ভূমিকা রাখছে। জলবায়ু ও দুর্যোগের কারণে বাস্তুচ্যুত কিছু পরিবার চট্টগ্রাম শহরে এসে বসবাস শুরু করলে তাদের সন্তানদেরও জীবিকার চাপে কাজে যুক্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
তবে চট্টগ্রামের শিশুদের গল্প শুধু কষ্টের নয়। তাদের মধ্যে স্বপ্ন আছে, প্রতিভা আছে, সামনে এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। প্রয়োজন শুধু সেই সুযোগটা তৈরি করে দেওয়া।
আমার মনে হয়, একটি শিশুকে সাহায্য করার অর্থ শুধু তাকে একদিন খাবার বা পোশাক দেওয়া নয়। তাকে স্কুলে ফিরিয়ে দেওয়া, তার কথা মন দিয়ে শোনা, তার প্রতিভাকে উৎসাহ দেওয়া এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাও শিশুর পাশে দাঁড়ানোর অংশ।
আমরা যদি চট্টগ্রামকে সত্যিই একটি সুন্দর শহর হিসেবে দেখতে চাই, তাহলে আমাদের শহরের শিশুদের শৈশবও সুন্দর করতে হবে। যে হাতে আজ বই থাকার কথা, সেই হাতে যেন জীবিকার বোঝা না থাকে। যে চোখে আজ ভবিষ্যতের স্বপ্ন থাকার কথা, সেখানে যেন অভাব আর অসহায়ত্ব জায়গা না নেয়।
আমি বিশ্বাস করি, একটি শিশুর জন্য একটি সুযোগ কখনোই ছোট নয়। হয়তো আমাদের দেওয়া সেই ছোট্ট সুযোগই একদিন একটি শিশুর পুরো জীবন বদলে দিতে পারে।
শিশুরা শুধু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ নয়—তারা আজকেরও অংশ। তাই তাদের অধিকার ও স্বপ্নের দায়িত্ব আমাদের আজ থেকেই নিতে হবে।
What Our Viewers Say
Be the first to share your thoughts.
